Sunday, August 23, 2015

হাবল টেলিস্কোপের নতুন আবিস্কার।

হাবল টেলিস্কোপের নতুন আবিস্কার।

নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দুইটি মার্জ উপবৃত্তাকার ছায়াপথ এর ভিতরে প্রায় আবৃত একটি অদ্ভুত লম্ভা মুক্তোর মত দেখতে একটি স্তম্ভের সন্ধান পেয়েছে।কোঁকড়ানো লম্ভা বস্তুটি 100,000 আলোক বর্ষ লম্মা এবং এর রং নীল।আসলে এটি একটি বিশাল তরুণ তারকা গুচ্ছ (Star cluster)।

গবেষক বলেন.আপনি সুন্দর একটি কাঠামো উপর দৄস্টি নিক্ষেপ করেছেন।এবং এটি সম্পর্কে আরও অনেক কিছু আমরা জানতে পারবো,তিনি আরো বলেন আমরা এই অত্যাশ্চর্য বস্তুটির খোজ পেয়ে এবং একে দেখে বিস্মিত হয়েছি।”গবেষণায় নেতা গ্রান্ট Tremblay, Garching, জার্মানিতে ইউরোপীয় সাউদার্ন মানমন্দির, এক বিবৃতিতে বলেন।

বলেন।আমরা দীর্ঘ ঘটনাটি ‘এই রকম একটি বিশাল তারকা গুচ্ছ বিন্যাস দৈত্যকার মার্জ উপবৃত্তাকার ছায়াপথের ভিতরের অবস্থানে দেখেছি যা এর আগে কখনো দেখেছি কিনা ঠিক বলতে পারবো না।এর কারন এই বস্তুটি আছে উপবৃত্তাকার ছায়াপথের বাহুর প্রান্তভাগে,এবং ছায়াপথের প্রচন্ড ম্যাধ্যাকর্ষন শক্তির এলকার মধ্যে।দুইটি ছায়াপথের মধ্যে থাকা এই তারা গুচ্ছটি J1531 +3414 নামে পরিচিত,এবং এই ছায়াপথ দুটি 330,000 আলোকবর্ষ চওড়া।

চওড়া।গবেষক বলেন,(তুলনা করার জন্য, আমাদের নিজস্ব আকাশগঙ্গা কেন্দ্রের কথা বলছি এটি 100,000 আলোকবর্ষ চওড়া।এই তরুন নীল বড় ক্লাস্টার নির্মাণের ফলে তারা গঠনের সময় একটি তীব্র বিস্ফোরনের ঝলকের সৄস্টি হয়েছিল।এবং এটি হয়েছিল তারকা গঠনের সময় নিউক্লিয়ার বিস্ফোরনের ফলে। এই তারকা বিরচন গ্যাসের জন্য উৎপত্তি হোক না কেন, এর ফলে “Tremblay বলেন.” এটা খুব উত্তেজনাপূর্ণ. আপনি/আমি এই জন্য একটি জাগতিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছি না । এর জন্য আরো গবেষনার প্রয়োজন।

হাবলের নতুন হাবল ফটোতে দেখা যায় উজ্জ্বল নীল ক্লাস্টার এর শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষনের কারনে যে আলোর সৄস্টি হয় তা দূরবর্তী ছায়াপথ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

ছবি নাসা-

টেলিস্কোপ কেনার আগে যা যা জানা প্রয়োজন...

মহাকাশের অজানা রহস্য কে নিজের জ্ঞানের
সীমার মাঝে আবদ্ধ করার ইচ্ছা থেকেই
গুটি গুটি পায়ে হাটতে শিখেছে মানুষ
তথা মানব সভ্যতা। আকাশ
নিয়ে অতীতে মানুষের ধারণাগুলো ঠিক
আজকের মত কিন্তু ছিল না । আজ
আমরা জানি চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে আর
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে। এই ধারণাও
মানবসভ্যতার একরাতের অর্জন নয়, এতে সময়
লেগেছে অনেক, দিতে হয়েছে অনেক
বিজ্ঞানীর শ্রম । যারা বিজ্ঞানী নন,
তাদেরও তো আছে আকাশ দেখার সাধ। আর তাই
তাদের জন্যেও আছে কিছু যন্ত্রপাতি। শখ
করে জ্যোতির্বিদ হতে চাইলে প্রথমেই চাই
একটা টেলিস্কোপ, বাংলায় যার অর্থ
দূরবীক্ষণযন্ত্র।
বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর হাত ধরে যাত্রা শুরু
হয়েছিল টেলিস্কোপের। গ্যালিলিও
টেলিস্কোপের সাহায্যে বিভিন্ন গ্রহের
পরিভ্রমণ পথ
পরীক্ষা করে ঘোষণা দিয়েছিলেন সূর্য নয়,
পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
বর্তমানে আধুনিক অনেক টেলিস্কোপ
তৈরি হচ্ছে।গ্যালিলিওর মৃত্যুর পর আইজ্যাক
নিউটন টেলিস্কোপ নিয়ে কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে মূলত দুই ধরণের টেলিস্কোপ
পাওয়া যায়- প্রতিসরণ টেলিস্কোপ আর
প্রতিফলন টেলিস্কোপ। প্রতিসরণ
টেলিস্কোপের উদ্ভাবক গ্যালিলিও
গ্যালিলি এবং প্রতিফলন টেলিস্কোপের
আইজ্যাক নিউটন। প্রতিসরণ টেলিস্কোপ – এই
নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে এখানে মূলত
প্রতিসরণ কে কাজে লাগানো হয়।
এতে দুইটি লেন্স ব্যবহার হয়, একটি হয় বড়
যা নলের শেষে থাকে একে বলে অভিলক্ষ্য
লেন্স, আরেকটি ছোট লেন্স যা নলের
শুরুতে থাকে যাকে অভিনেত্র লেন্স বলে। আর
প্রতিফলন টেলিস্কোপ নামেই বুঝিয়ে দেয় এই
টেলিস্কোপে প্রতিফলনের সূত্র
কে কাজে লাগানো হয়। এতে দুইটি লেন্স এর
পরিবর্তে দুটি আয়না(প্রতিফলক)
ব্যবহাতিকরা হয়। বর্তমান পৃথিবীর
সবচেয়ে উন্নত অপটিক্যাল দুরবিন, এটি হল
গ্রেগরিয়ান বাইনোকুলার দুরবিন।
এটি একটি প্রতিফলন টেলিস্কোপ,
এটি পৃথিবীর অন্য যে কোনো টেলিস্কোপ
চেয়ে বেশি আলো সংগ্রহ করে। এই
টেলিস্কোপে তোলা ছবি হাবল মহাকাশ
দুরবিনের তোলা ছবি থেকেও দশ গুণ
বেশি পরিষ্কার।
এখন সৌখিন জ্যোতির্বিদ যারা হতে চান
তাদের জন্যে টেলিস্কোপ নিয়ে কিছু তথ্য।
ধরুন আপনি টেলিস্কোপ কিনতে যাবেন।
টেলিস্কোপ ক্রয় করার পূর্বে আপনার
কয়েকটি বিষয় জানা থাকা দরকার ।
টেলিস্কোপে কি কি থাকা আবশ্যক
কি কি পরিহার করা উচিত
তা ঠিকভাবে না জেনে টেলিস্কোপ ক্রয়
করলে আপনি ঠিক ভাবে সব কাজ
করতে পারবেন না। তাই টেলিস্কোপ ক্রয়
করার পূর্বে কয়েকটা বিষয় জানাটা জরুরিঃ
১। ক্ষমতাঃ একটি ভাল টেলিস্কোপ এর
ক্ষমতা দ্বারা বিচার করা যাবে না।
টেলিস্কোপের উচ্চ ক্ষমতা শুনতে ভাল
লাগলেও এর একটি সমস্যা আছে। যখন উচ্চ
বিবর্ধন এর মাধ্যমে একটি বস্তুকে বিবর্ধিত
করা হয়, তখন টেলিস্কোপের দ্বারা জমাকৃত
আলোকরশ্মি বিশাল জায়গা দখল
করে যা একটি অস্পষ্ট বিম্ব সৃষ্টি করে।
এছাড়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপের আই-
পীস (অভিনেত্র) এর নকশার কিছু
সীমাবদ্ধতা আছে, যার মাধ্যমে বড় আকারের
বিম্ব দেখতে সমস্যা হয়। অনেক সময় কম
ক্ষমতাসম্পন্ন টেলিস্কোপই ভাল পর্যবেক্ষণ
এর অভিজ্ঞতা দেয়। টেলিস্কোপ এর বিবর্ধন
ক্ষমতা ৫০ গুন হলে ভাল হয়।
২। উণ্মেষঃ একটি দূরবীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বৈশিষ্ট্য তার উণ্মেষ। উণ্মেষ হল
একটি রন্ধ্র যার মধ্য দিয়ে আলো গমন করে।
আলোক বিজ্ঞানে উণ্মেষ হল
আলোকরশ্মি একত্রকারী লেন্স এর ব্যাস
যাকে অভিনেত্র(objective) বলে। উণ্মেষ এর
ব্যাস কে সাধারণত মিলিমিটার ও
মাঝে মাঝে ইঞ্চিতে প্রকাশ করা হয়( ১
ইঞ্চি = ২৫.৪ মিলিমিটার )। টেলিস্কোপের
উণ্মেষ সাধারণত ২.৮ ইঞ্চি (৭০ মিলি)
বা এর চেয়ে বেশি হয়। ছোট উণ্মেষ এর
তুলনায় বড় উণ্মেষ অনেক ভাল স্পষ্ট বিম্ব
সৃষ্টি করে । টেলিস্কোপের লেন্সের
ক্ষমতা উণ্মেষ এর আকারের উপর নির্ভর করে।
টেলিস্কোপের লেন্সের
আলোকরশ্মি কে একত্রিত করার ক্ষমতা ঊণ্মেষ
একারের সমানুপাতিক হয় আর টেলিস্কোপ যত
আলোকরশ্মি একত্রিত করতে পারে তার
মাধ্যমে তত সুস্পষ্ট বিম্ব গঠিত হয় ।
৩। ফোকাস অনুপাতঃ ফোকাস অনুপাত হল ফোকাস
দূরত্ব ও টেলিস্কোপের উণ্মেষ এর অনুপাত ।
ফোকাস দূরত্ব হল আলোক কেন্দ্র থেকে প্রধান
ফোকাস বা দ্বিতীয় ফোকাসের দূরত্ব। আর
ফোকাস অনুপাত যত ছোট হবে বিম্ব তো উজ্জ্বল
হবে।
৪।টেলিস্কোপ ধারক(mount)- সাধারণত
টেলিস্কোপ ক্রয় করার সময় কেউই খেয়াল
করে ধারক বা আরোহণ ক্রয় করে না কিন্তু
এটি খুবই একটি জরুরি বিষয়, কারণ লক্ষ্যবস্তু
কত কোণে আছে তা জেনে ঠিক
ভাবে টেলিস্কোপ কে বসানোর জন্য ধারক
অবশ্যই লাগবে। বাজারে দুই ধরনের ধারক
পাওয়া যায়। একটি হল আল্টাজিমাথ
(Altazimuth) ধারক- এটি ক্যমেরা ট্রাইপড
এর চেয়ে ছোট । এটিতে টেলিস্কোপকে উপর
নিচ করা যায় এবং সামনে পিছনে নেয়া যায়
। আরেকটি হল ইকুয়াটেরিয়াল(Equatorial )
ধারক- এটিতে সাধারণত মোটর যুক্ত
থাকে যার ফলে আকাশে কোন লক্ষ্যবস্তুকে তাক
করা যায় । কিছু কিছু ইকুয়াটেরিয়াল এ ছোট
কম্পিউটার যুক্ত থাকে । এই টেলিস্কোপ
ধারকটি সাধারণত আকাশ
পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হয় ।
৫। আই-পীস (অভিনেত্র) : আপনার
টেলিস্কোপে কমপক্ষে ১টি আই-পীস থাকবে ।
অভিনেত্র কে সাধারণত মিলিমিটারে প্রকাশ
করা হয়। যারা নতুন টেলিস্কোপ কিনছেন
তাদের জন্য ২৫মিলিমিটারের অভিনেত্রই
সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।
টেলিস্কোপের দাম-দর ও কোথায় পাবেনঃ এখন
বাজারে নানা ধরনের টেলিস্কোপ
পাওয়া যায়। এই গুলোর মধ্যে অরিয়ন,
তাকাহাসি, সেলেস্ট্রন, মীড প্রভৃতি বিশ্ব
বিখ্যাত। টেলিস্কোপ ধরণ
অনুযায়ী নানা দামের হয়ে থাকে।মূলত
আপনি ১০,০০০ হতে কয়েক লক্ষ টাকা দামের
টেলিস্কোপ ঢাকা হতে কিনতে পারেন। কিছু
টেলিস্কোপ আছে যেগুলোর দিয়ে পৃথিবীর
ভেতরেই বিভিন্ন জিনিস দেখা যায়। ঊঁচু
পর্বতের তলায় দাড়িয়ে এক
টানে চূড়াটাকে কাছে টেনে আনা যায় এমন
টেলিস্কোপও আছে। এই
টেলিস্কোপগুলো পাওয়া যাবে ঢাকার
স্টেডিয়াম মার্কেটে। চাঁদ
ভালভাবে দেখতে পারবেন এমন টেলিস্কোপ
পাওয়া যাবে ৩৫০০০টাকা থেকে শুরু
করে ৪,০০,০০০টাকার মধ্যে। আর সাধারণ
দূরত্বে দেখতে চাইলে ১৮,০০০ থেকে ২৫,০০০
টাকা দামের টেলিস্কোপই যথেষ্ট। সৌখিন
জোতির্বিদদের জন্য বাজারে আছে নানান
রকম টেলিস্কোপ। কোনটা দিয়ে স্পষ্ট
দেখা যায় চাঁদ। কোনটা দিয়ে আবার
একলাফে চলে যাওয়া যায় আলোকবর্ষ দূরের
গ্রহনক্ষত্রে ।
একটি টেলিস্কোপ খুব সহজেই
পারে আপনাকে নিয়ে যেতে মহাকাশের
অজানা রাজ্যে, যার শেষ এখনও মানুষ
করতে পারেনি। একটি টেলিস্কোপ আপনার
সামনে খুলে দিতে পারে এমন ও এক
অজানা জগত যেখানে হয়তো বাস করছে কোন
এক বুদ্ধিদীপ্ত প্রাণী ।

Saturday, August 22, 2015

ঘোড়া থেকে আসে দুনিয়ার সব সাপের বিষের প্রতিষেধক Anti-Venom

পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের
কামড়ে হাতি মারা যায়, কিন্তু একটা প্রাণী মরে না। প্রাণীটির নাম ঘোড়া। সাপের
কামড়ে কোনদিন ঘোড়া মরে না।
তিনদিন অসুস্থ থাকে। তারপর সুস্থ হয়ে যায়। আর এই ঘোড়া থেকে আসে দুনিয়ার সব সাপের বিষের প্রতিষেধক anti-venom
কোনএকটি সাপ, ধরেন কিং কোবরা’র anti-venom তৈরি করতে হলে যা করা লাগে তা হল,
ওই সাপের বিষ ঘোড়ার শরীরে ঢুকিয়ে দিতে হয়। একগাঁদি পরিমাণ ঢুকালেও সমস্যা নেই।
ঘোড়ার কিছু হবে না। কিছু হবে না বলতে, ঘোড়া মরবে না। ঘোড়া তিনদিন অসুস্থ থাকবে। এরপর সুস্থ হয়ে যাবে। এই তিনদিনে ঘোড়ার রক্তে ওই সাপের বিষের anti-venom তৈরি হয়ে গেছে।
এবার ঘোড়ার শরীর থেকে কিছু পরিমাণ রক্ত নিয়ে তার লাল অংশ আলাদা করা হয়। সাদা অংশ অর্থাৎ ম্যাট্রিক্স থেকে অ্যান্টি ভেনাম আলাদা করা হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে পাঠানো হয়। মানুষ’কে সাপে কামড়া’লে ডাইরেক্ট ইনজেকশন দিয়ে পুশ করা হয়। খোদ ইন্ডিয়াতে গাদা গাদা অ্যান্টি ভেনাম প্রস্তুতকারক কোম্পানি আছে। পালের পর পাল ঘোড়া তাদের মূল সম্বল। ঘোড়া না থাকলে সাপের কামড় খেয়ে মানুষের আর বাঁচা লাগত না। এক ছোবলে ডাইরেক্ট উপরে

ইউরেনিয়াম পরিচিতি ও এর ব্যবহার


ইউরেনিয়ামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :

ইউরেনিয়াম রূপালি-সাদা বর্ণের তেজস্ক্রিয় একটি ধাতু। ১৭৮৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী মার্টিন হাইনরিখ ক্ল্যাপরথ ইউরেনিয়াম আবিষ্কার করেন। তিনি ইউরেনাস গ্রহের নামানুসারে এর নামকরণ করেন ইউরেনিয়াম। কারণ সে সময় ইউরেনাস গ্রহের আবিষ্কারের ঘটনা ছিল সবচেয়ে সাম্প্রতিক। কিন্তু প্রথম ইউরেনিয়াম সংশ্লেষ করা হয় ১৮৪১ সালে। এই সালে বিজ্ঞানী ইউজিন পেলিকট ইউরেনিয়াম টেট্রাক্লোরাইড থেকে প্রথম ইউরেনিয়াম সংশ্লেষ করেন। ১৯৪০ সালে নেপচুনিয়াম আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত এটিই ছিল সবচেয়ে ভারী। ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

যেসব দেশে পাওয়া যায় : প্রত্যেক বছর প্রায় ৫০ হাজার টোনের মত অশোধিত ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয়। ২০১০ সালেই কেবল ৫৩ হাজার ৬৬৩ টোন ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয়েছিল বিশ্বব্যাপী। এর মধ্যে ৩৩ দশমিক দুই শতাংশ কাজাখস্থান, ১৭ শতাংশ কানাডা, ৮ শতাংশ অস্ট্রেলিয়া, ৬ শতাংশ নামিবিয়া, ৫ শতাংশ নাইজার এবং বাকী অংশ রাশিয়াসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশের খনি থেকে পাওয়া যায়।

ইউরেনিয়ামের ব্যবহার : ইউরেনিয়াম খুবই দামি একটু ধাতু। পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম একিট অপরিহার্য উপাদান। সে কারণেই এর বহন ও ব্যবসা বাণিজ্য সর্বসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ। তবে সামরিক কাজ ছাড়াও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

পারমাণবিক বোমা : পারমাণবিক মারণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটল বয় ও ফ্যাটম্যান নামে যে দুটো বোমা নিক্ষেপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই দুটো বোমা তৈরিতেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে ইরানের বিরুদ্ধেও পশ্চিমা বিশ্ব প্রায়ই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অভিযোগ তোলে। পশ্চিমা বিশ্বের ভয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে সক্ষম হবে। অবশ্য ইউরেনিয়াম থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়াটা বেশ জটিলতাযুক্ত।

সামরিক ব্যবহার : সামরিক ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামের ব্যবহার সর্বাধিক। গোলা বারুদের ভেদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইউরেনিয়াম বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে অস্ত্রের ধ্বংস ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গোলাবারুদের মধ্যে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের মাধ্যমে ট্যাঙ্কের মত শক্তিশালী যুদ্ধযানকেও ধ্বংস করা সম্ভব। এছাড়াও তেজস্ক্রিয় অন্যান্য পদার্থ যেমন রেডিয়ামের কন্টেইনার থেকে তেজস্ক্রিয়তা বের হওয়া রোধ করতেও ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়। অবশ্য ইউরেনিয়াম নিজেও একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। সামরিক ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের ফলে তেজস্ক্রিয়ার থেকেও বেশি ভয় হলো রাসায়নিক বিষক্রিয়া।

বেসামরিক ব্যবহার : ইউরেনিয়ামের সবচেয়ে বড় বেসামরিক ব্যবহার হলো পারমাণবিক চুল্লিতে। বিদুৎ উৎপাদন করার জন্য পারমাণবিক চুল্লির জন্য ধাতুটির অত্যান্ত প্রয়োজনীয়। ১৫শ টন কয়লা থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব তার সমান বিদুৎ উৎপাদনের জন্য মাত্র ১ কেজি ইউরেনিয়ামই যথেষ্ট। মজার ব্যাপার হচ্ছে ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত অন্য কয়েকটি পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে কাঁচের শোপিস তৈরিতে ব্যবহৃত হত।

ইউরেনিয়ামের ক্ষতিকর দিক : পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াও ইউরেনিয়ামের খনি ও কারখানায় কাজ করার মাধ্যমে যে কেউ ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে আসতে পারে। মানুষের কিডনি, মস্তিষ্ক, যকৃত, হৃদপিণ্ডসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে ক্ষত্রিগস্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী সময় ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার কারণে ক্যান্সার হয়ে থাকে।

কাল-ভ্রমণ ও ওয়ার্মহোল !

কাল-ভ্রমণ ও ওয়ার্মহোল




বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর যেসব বিষয়গুলো বেশ জনপ্রিয়, সেগুলোর মধ্যে কাল ভ্রমণ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এইচ জি ওয়েলসের লেখা টাইম মেশিন থেকে শুরু করে এখন এটা একটা হট টপিক ! এখন প্রশ্ন হলো, কাল ভ্রমণ কি আসলেই সম্ভব ? স্ট্রিং থিওরির জটিল কথা বাদ দিয়ে যদি প্রশ্ন করি যে, কাল বা সময় আসলে কী ? আমরা যে ত্রিমাত্রিক জগতে থাকি তার তিন মাত্রার পরে আরো যে একটা মাত্রা ধরে নেয়া হয়, সেটাই হচ্ছে কাল বা সময়। এই মাত্রা বাকি তিন মাত্রা হতে ভিন্ন। ভিন্ন কারণ, আমরা অন্য তিন মাত্রার তিন অক্ষে ভ্রমণ করতে পারি, কিন্তু কাল অক্ষে ভ্রমণ করতে পারি না। কারণ এ চতুর্থ মাত্রা নিজ থেকেই চলে; এটাকে কেউ থামাতে পারে না বা এর গতি বাড়াতে বা কমাতেও পারে না (এখনও)। কেন, আমরা ছোটবেলা হতেই কি শিখে আসছি না, যে সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না ? একবার চলে যাওয়া সময় আর ফিরে আসে না ? ইত্যাদি ইত্যাদি। কাল বা সময় পরিভ্রমণ কি সম্ভব ? অর্থাৎ আমরা এতদিন যা শিখে আসছি তাকে মিথ্যা বানিয়ে এই সময় কে থামাতে পারব বা এর গতি বাড়াতে বা কমাতেও পারব ? চলে যাওয়া সময় এ ফিরে আসতে পারব ? অর্থাৎ, টাইম মেশিন ! টাইম মেশিন এ করে অতীতে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু সমস্যা আছে। ‘‘পাগলা বিজ্ঞানীর প্যারাডক্স” এর উদাহরণ টেনে দেখি যদি আমরা একটা টাইম মেশিন বানাতে সক্ষম হয়েও যাই, তাহলে দেখা গেলো এক বদ লোক অতীতে গিয়ে নিজেকে ছোটবেলাতেই খুন করে পুনরায় বর্তমানে ফিরে এল, সেক্ষেত্রে কী হবে ? কাজেই, ঐখানে ঐ লোক তার অতীতে গিয়ে তাকেই মেরে ফেলে নিজে এখনও জীবিত আছে ! এটা কি আসলেও সম্ভব ? একমাত্র একটা ক্ষেত্রেই সেটা সম্ভব, যদি প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল জগতের অস্তিত্ব থাকে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, পাশাপাশি অসংখ্য জগত থাকতে পারে। এবং সে প্রত্যেকটা জগতে আপনার একটি করে “অস্তিত্ব” (Carbon Copy) আছেন। কোনো জগতে হয়তো আপনি এই সময়ে বই পড়ছেন অন্য জগতে আপনারই আরেক রুপ খাওয়া দাওয়া করছে, আবার অন্য এক জগতে আপনারই আরেকটা অস্তিত্তের অপঘাতে মৃত্যু হলো, তাতে অন্য জগতের কারো কিছু আসবে যাবে না। আপনি তাহলে এখন সহজেই অতীতে গিয়া নিজেকে মেরে, ফিরে আসতে পারবেন। আসলে এ প্যারালাল ইউনিভার্সের হাইপোথেসিস অনেক কিছুরই উত্তর সহজ করে দিয়েছে তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে এগুলা সবই বিজ্ঞানীদের ধারণা। এখন আমরা ওয়ার্মহোল নিয়ে কথা বলি যেটা কিনা সময় পরিভ্রমণ এর একটা যুক্তিযুক্ত আশা সৃষ্টি করেছিল অনেক বিজ্ঞানীর মনে (এমনকি সাধারণ মানুষ এর ও) : “Well, A Wormhole Is Created When
Many Atoms Are Accelerated In To The Special Fabric. You Need Negative Energy From A Star, Exotic Matter, Etc. That Is The Step For Stabilizing. Then, You Need To Move The Wormhole. That's If You Want To Go To The Past. If You Want To Go To The Future, You Need To Either, (A) Travel Close To The Speed Of Light, (B) Go Into A Strong Gravity Field” ওয়ার্মহোল (যার আরেক নাম স্টারগেট) হলো তত্ত্বীয়ভাবে পাওয়া এমন একটি সংক্ষিপ্ত গমনপথ যা স্থান-কালের ভেতর দিয়ে মহাবিশ্বের এক স্থান থেকে দীর্ঘ দূরত্বে অন্যস্থানে ভ্রমণ অনুমোদন করে। কেউ যদি ওয়ার্মহোল দিয়ে একটা লাফ দেয় তাহলে সে হয়তো নিজেকে মহাবিশ্বের অন্য প্রান্তে অন্য সময় এ খুঁজে পেতে পারে। সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের (General Theory Of Relativity) সমীকরণগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করে পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ও নাথান রোজেন (১৯৩৫) প্রস্তাব করেন, স্থান-কালের অভ্যন্তরে এক প্রকার সেতুর অস্তিত্ত্ব রয়েছে। এই পথসমুহকেই বলা হয় আইনস্টাইন রোজেন সেতু অথবা ওয়ার্মহোল যা স্থান- কালের দুটি বিন্দুকে সংযুক্ত করে। তত্ত্বীয়ভাবে দীর্ঘপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই গমনপথগুলো ব্যবহার করে দুরত্ব এবং সময় দুটোই ব্যপকহারে হ্রাস করা যায়। এখানে গ্র্যাভিটি শুধু সময়কে নয় স্থানকেও লণ্ডভণ্ড বা মুচড়ে ফেলতে পারে। (মানে টাইম মেশিন এর চেয়েও বেশি কিছু !) ওয়ার্মহোলে লম্বা একটা গলার দুইপ্রান্তে দুইটি মুখ থাকে। ওয়ার্মহোলের দুইমুখে দুটি ব্ল্যাকহোল থাকবে। ওয়ার্মহোল শুধুমাত্র মহাবিশ্বের দুটি পৃথক অঞ্চলকেই সংযুক্ত করেনা বরং দুটি মহাবিশ্বকেও সংযুক্ত করতে পারে। কিন্তু মানুষের জন্য এই ভ্রমণ কাজটি অত্যন্ত বিপদজনক হবে কারণ উচ্চমাত্রার বিকিরণ এবং বাইরের পদার্থের (Exotic Matter) সাথে বিপদজ্জনক সংযোগের দরুন এসব ওয়ার্মহোল যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। আর একটা ওয়ার্মহোলের স্ট্যাবিলিটির জন্য ইক্সোটিক ম্যাটারের উপস্হিতি প্রয়োজন কেননা এটার মাধ্যমে একটা এ্যান্টিগ্রাভিটি ফোর্স কাজ করবে এবং বিস্ফোরণ রোধ করবে যেটা তখন একে ব্লাকহোলে পরিণত করবে। এই এ্যাক্সোটিক ম্যাটার আমাদের চেনা জানা ফিজিক্সের দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে এই নেগেটিভ এ্যানর্জি স্টেটের অস্তিত্ব কিছু নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম সিস্টেমেই থাকে তবে এটা এখনো অপরিস্কার যে একটা ওয়ার্মহোলকে স্ট্যাবিলাইজ করতে, কী পরিমাণ এ্যান্টিগ্রাভিটি কণার প্রয়োজন। তবে যদি একটা স্ট্যাবল ওয়ার্মহোল যদি তৈরী করা যায়, তাহলে এটা একটা টাইম মেশিন হিসেবে কাজ করতে পারে। কয়েকজন বিজ্ঞানী এও অনুমান করেছেন, যদি ওয়ার্মহোলের কোন মুখ একটি নির্দিষ্ট উপায়ে গতিশীল হয় তবে এর দ্বারা অতীতে পরিভ্রমণ সম্ভব। তবে ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং এমনটি সম্ভব নয় বলে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “সময় ভ্রমণ এক সময় বৈজ্ঞানিক মতের বিরুদ্ধাচরণ হিসেবেই বিবেচিত হতো এবং মাথা পাগলা বদনামের ভয়ে আমি এসব নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকতাম, কিন্তু এখন আর আমি অতোটা চিন্তিত নই।” হকিং আলোর কাছাকাছি গতির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ এ যাওয়ার ব্যাপারে একমত হলেও, সময় ভ্রমণের মাধ্যমে অতীতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। তাই বলা যায়, আমাদের কাল ভ্রমণ এর জন্য এখনও অনেক অনেক দিন অপেক্ষা করা বাকি (ততদিন আমার বেঁচে থাকার সম্ভবনা যদিও ক্ষীণ !) এবং বর্তমান প্রযুক্তির ও আর অনেক উন্নতি হবার বাকি। তবে আশা করি কাল ভ্রমণ একদিন শুধুই আমাদের কল্পনার বিষয় হয়ে থাকবে না।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ টাইটানোবোয়ার ইতিহাস : ফিরে আসতে পারে টাইটানোবোয়া !

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ টাইটানোবোয়ার ইতিহাস : ফিরে আসতে পারে টাইটানোবোয়া !




সম্প্রতি উত্তর কলম্বিয়ার একটি পরিত্যক্ত কয়লাখনিতে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় ৫০ ফুট বা ১৪ মিটার লম্বা এবং ১ টনের বেশি ওজনের একটি বিশালাকার সাপের ফসিল। এই পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রাগৈতিহাসিক সকল সাপের মধ্যেই এটিই সবচেয়ে বড়। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন, টাইটানোবোয়া চেরোনোসিস। টাইটানোবোয়া চেরনোসিস আজ থেকে ৬০ মিলিয়ন বছর আগে কলম্বিয়ার জলাভূমিতে পাওয়া যেত। এই টাইটানোবোয়াগুলো ছিল বর্তমানের বড় আকারের এক একটি অ্যানাকোন্ডার চেয়ে প্রায় ১০গুন বড়। এরা এক একটি এক গালে গিলতে পারতো বড় আকারের কুমির। বিজ্ঞানীরা বলেন, সাপ তার শরীরের তাপমাত্রার সাথে পরিবেশের তাপমাত্রার খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে শীতের সময় তারা গর্তে প্রবেশ করে। কিন্তু আজ থেকে ৬০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর তাপমাত্রা ছিল আরো উত্তপ্ত ফলে পরিবেশগত কারণে এই বিশালাকার সাপের সৃষ্টি হতো। বড় আকারের কারণে একে বেশিরভাগ সময় পানিতেই কাটাতে হতো। টাইটানোবোয়া কিন্তু বিষাক্ত কোন সাপ নয়। কিন্তু এটি শিকারকে মেরে ফেলার জন্য যে চাপ প্রদান করতো তাতেই শিকারের প্রাণ ওষ্ঠাগত। শিকার হিসেবে এই প্রাণীটি খেত ৫ ফুট লম্বা কচ্ছপ এবং ২০ ফুট লম্বা কুমির। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোয়ান মিউজিয়াম এই বড় আকারের সাপের একটি রেপ্লিকা প্রদর্শিত করছে। প্রদর্শিত রেপ্লিকা সাপটি যেভাবে একটি বড় আকারের কুমিরকে গিলে ফেলছে তা সত্যি ভয়ানক। একটি অ্যানাকোন্ডা সাপ কাদাময় জলাভুমি কিংবা গভীর নদীর মধ্য দিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট শ্বাস না নিয়ে সাঁতার কাটতে পারে। প্রাণীবিজ্ঞানীরা মনে করেন, টাইটানোবোয়া তার ওজনের কারণে এতো বেশি সময় পানির নিচে শ্বাস না নিয়ে সাঁতার কাটতে পারবে না। তাই তারা সম্ভবত মাথাকে পানির উপরে রেখে সাঁতার কাটতো। ৬০ মিলিয়ন বছর আগে পেলিওসিস যুগে পরিবেশের যে তাপমাত্রা ছিল তাতে এই বিশালাকার প্রাণীগুলো টিকে থাকতো। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের এই আশংকার দিকে নিয়ে যাচ্ছে যে, বিশালাকার প্রাণীগুলো পরিবেশে আবার ফিরে আসতে পারে। উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীগুলো যত বড় আকারের হবে ততই তারা হিমশীতল পরিবেশের দিকে ধাবিত হবে যেমন মেরুভালুক। আবার একইভাবে শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীরা চাইবে উত্তপ্ত পরিবেশ। টাইটানোবোয়াগুলো কেন বিলুপ্ত হয়েছে তা নিয়ে মতভেদ আছে কোন কোন প্রাণীবিদ বলে থাকেন, পরিবেশের তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়নি। আবার অন্যরা মনে করেন, বিশালাকার এবং মাংসাশী হওয়ার কারণে এর খাদ্যের সংকট দেখা দেয় ফলে বিলুপ্ত হয়।