Saturday, August 22, 2015

কাল-ভ্রমণ ও ওয়ার্মহোল !

কাল-ভ্রমণ ও ওয়ার্মহোল




বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর যেসব বিষয়গুলো বেশ জনপ্রিয়, সেগুলোর মধ্যে কাল ভ্রমণ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এইচ জি ওয়েলসের লেখা টাইম মেশিন থেকে শুরু করে এখন এটা একটা হট টপিক ! এখন প্রশ্ন হলো, কাল ভ্রমণ কি আসলেই সম্ভব ? স্ট্রিং থিওরির জটিল কথা বাদ দিয়ে যদি প্রশ্ন করি যে, কাল বা সময় আসলে কী ? আমরা যে ত্রিমাত্রিক জগতে থাকি তার তিন মাত্রার পরে আরো যে একটা মাত্রা ধরে নেয়া হয়, সেটাই হচ্ছে কাল বা সময়। এই মাত্রা বাকি তিন মাত্রা হতে ভিন্ন। ভিন্ন কারণ, আমরা অন্য তিন মাত্রার তিন অক্ষে ভ্রমণ করতে পারি, কিন্তু কাল অক্ষে ভ্রমণ করতে পারি না। কারণ এ চতুর্থ মাত্রা নিজ থেকেই চলে; এটাকে কেউ থামাতে পারে না বা এর গতি বাড়াতে বা কমাতেও পারে না (এখনও)। কেন, আমরা ছোটবেলা হতেই কি শিখে আসছি না, যে সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না ? একবার চলে যাওয়া সময় আর ফিরে আসে না ? ইত্যাদি ইত্যাদি। কাল বা সময় পরিভ্রমণ কি সম্ভব ? অর্থাৎ আমরা এতদিন যা শিখে আসছি তাকে মিথ্যা বানিয়ে এই সময় কে থামাতে পারব বা এর গতি বাড়াতে বা কমাতেও পারব ? চলে যাওয়া সময় এ ফিরে আসতে পারব ? অর্থাৎ, টাইম মেশিন ! টাইম মেশিন এ করে অতীতে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু সমস্যা আছে। ‘‘পাগলা বিজ্ঞানীর প্যারাডক্স” এর উদাহরণ টেনে দেখি যদি আমরা একটা টাইম মেশিন বানাতে সক্ষম হয়েও যাই, তাহলে দেখা গেলো এক বদ লোক অতীতে গিয়ে নিজেকে ছোটবেলাতেই খুন করে পুনরায় বর্তমানে ফিরে এল, সেক্ষেত্রে কী হবে ? কাজেই, ঐখানে ঐ লোক তার অতীতে গিয়ে তাকেই মেরে ফেলে নিজে এখনও জীবিত আছে ! এটা কি আসলেও সম্ভব ? একমাত্র একটা ক্ষেত্রেই সেটা সম্ভব, যদি প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল জগতের অস্তিত্ব থাকে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম, পাশাপাশি অসংখ্য জগত থাকতে পারে। এবং সে প্রত্যেকটা জগতে আপনার একটি করে “অস্তিত্ব” (Carbon Copy) আছেন। কোনো জগতে হয়তো আপনি এই সময়ে বই পড়ছেন অন্য জগতে আপনারই আরেক রুপ খাওয়া দাওয়া করছে, আবার অন্য এক জগতে আপনারই আরেকটা অস্তিত্তের অপঘাতে মৃত্যু হলো, তাতে অন্য জগতের কারো কিছু আসবে যাবে না। আপনি তাহলে এখন সহজেই অতীতে গিয়া নিজেকে মেরে, ফিরে আসতে পারবেন। আসলে এ প্যারালাল ইউনিভার্সের হাইপোথেসিস অনেক কিছুরই উত্তর সহজ করে দিয়েছে তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে এগুলা সবই বিজ্ঞানীদের ধারণা। এখন আমরা ওয়ার্মহোল নিয়ে কথা বলি যেটা কিনা সময় পরিভ্রমণ এর একটা যুক্তিযুক্ত আশা সৃষ্টি করেছিল অনেক বিজ্ঞানীর মনে (এমনকি সাধারণ মানুষ এর ও) : “Well, A Wormhole Is Created When
Many Atoms Are Accelerated In To The Special Fabric. You Need Negative Energy From A Star, Exotic Matter, Etc. That Is The Step For Stabilizing. Then, You Need To Move The Wormhole. That's If You Want To Go To The Past. If You Want To Go To The Future, You Need To Either, (A) Travel Close To The Speed Of Light, (B) Go Into A Strong Gravity Field” ওয়ার্মহোল (যার আরেক নাম স্টারগেট) হলো তত্ত্বীয়ভাবে পাওয়া এমন একটি সংক্ষিপ্ত গমনপথ যা স্থান-কালের ভেতর দিয়ে মহাবিশ্বের এক স্থান থেকে দীর্ঘ দূরত্বে অন্যস্থানে ভ্রমণ অনুমোদন করে। কেউ যদি ওয়ার্মহোল দিয়ে একটা লাফ দেয় তাহলে সে হয়তো নিজেকে মহাবিশ্বের অন্য প্রান্তে অন্য সময় এ খুঁজে পেতে পারে। সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের (General Theory Of Relativity) সমীকরণগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করে পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ও নাথান রোজেন (১৯৩৫) প্রস্তাব করেন, স্থান-কালের অভ্যন্তরে এক প্রকার সেতুর অস্তিত্ত্ব রয়েছে। এই পথসমুহকেই বলা হয় আইনস্টাইন রোজেন সেতু অথবা ওয়ার্মহোল যা স্থান- কালের দুটি বিন্দুকে সংযুক্ত করে। তত্ত্বীয়ভাবে দীর্ঘপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই গমনপথগুলো ব্যবহার করে দুরত্ব এবং সময় দুটোই ব্যপকহারে হ্রাস করা যায়। এখানে গ্র্যাভিটি শুধু সময়কে নয় স্থানকেও লণ্ডভণ্ড বা মুচড়ে ফেলতে পারে। (মানে টাইম মেশিন এর চেয়েও বেশি কিছু !) ওয়ার্মহোলে লম্বা একটা গলার দুইপ্রান্তে দুইটি মুখ থাকে। ওয়ার্মহোলের দুইমুখে দুটি ব্ল্যাকহোল থাকবে। ওয়ার্মহোল শুধুমাত্র মহাবিশ্বের দুটি পৃথক অঞ্চলকেই সংযুক্ত করেনা বরং দুটি মহাবিশ্বকেও সংযুক্ত করতে পারে। কিন্তু মানুষের জন্য এই ভ্রমণ কাজটি অত্যন্ত বিপদজনক হবে কারণ উচ্চমাত্রার বিকিরণ এবং বাইরের পদার্থের (Exotic Matter) সাথে বিপদজ্জনক সংযোগের দরুন এসব ওয়ার্মহোল যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। আর একটা ওয়ার্মহোলের স্ট্যাবিলিটির জন্য ইক্সোটিক ম্যাটারের উপস্হিতি প্রয়োজন কেননা এটার মাধ্যমে একটা এ্যান্টিগ্রাভিটি ফোর্স কাজ করবে এবং বিস্ফোরণ রোধ করবে যেটা তখন একে ব্লাকহোলে পরিণত করবে। এই এ্যাক্সোটিক ম্যাটার আমাদের চেনা জানা ফিজিক্সের দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে এই নেগেটিভ এ্যানর্জি স্টেটের অস্তিত্ব কিছু নির্দিষ্ট কোয়ান্টাম সিস্টেমেই থাকে তবে এটা এখনো অপরিস্কার যে একটা ওয়ার্মহোলকে স্ট্যাবিলাইজ করতে, কী পরিমাণ এ্যান্টিগ্রাভিটি কণার প্রয়োজন। তবে যদি একটা স্ট্যাবল ওয়ার্মহোল যদি তৈরী করা যায়, তাহলে এটা একটা টাইম মেশিন হিসেবে কাজ করতে পারে। কয়েকজন বিজ্ঞানী এও অনুমান করেছেন, যদি ওয়ার্মহোলের কোন মুখ একটি নির্দিষ্ট উপায়ে গতিশীল হয় তবে এর দ্বারা অতীতে পরিভ্রমণ সম্ভব। তবে ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং এমনটি সম্ভব নয় বলে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, “সময় ভ্রমণ এক সময় বৈজ্ঞানিক মতের বিরুদ্ধাচরণ হিসেবেই বিবেচিত হতো এবং মাথা পাগলা বদনামের ভয়ে আমি এসব নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকতাম, কিন্তু এখন আর আমি অতোটা চিন্তিত নই।” হকিং আলোর কাছাকাছি গতির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ এ যাওয়ার ব্যাপারে একমত হলেও, সময় ভ্রমণের মাধ্যমে অতীতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন। তাই বলা যায়, আমাদের কাল ভ্রমণ এর জন্য এখনও অনেক অনেক দিন অপেক্ষা করা বাকি (ততদিন আমার বেঁচে থাকার সম্ভবনা যদিও ক্ষীণ !) এবং বর্তমান প্রযুক্তির ও আর অনেক উন্নতি হবার বাকি। তবে আশা করি কাল ভ্রমণ একদিন শুধুই আমাদের কল্পনার বিষয় হয়ে থাকবে না।

No comments:

Post a Comment